চট্টগ্রাম   রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের সয়লাব, ৫ দিনে উদ্ধার ২০ লাখ ইয়াবা! নেপথ্যে আরকান আর্মির মাদক সাম্রাজ্য, বদলে ফেলেছে কৌশল মাদক মাফিয়ারা

আমাদের ডেস্ক :    |    ০৭:৩৪ পিএম, ২০২৬-১০-১০

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের সয়লাব, ৫ দিনে উদ্ধার ২০ লাখ ইয়াবা! নেপথ্যে আরকান আর্মির মাদক সাম্রাজ্য, বদলে ফেলেছে কৌশল মাদক মাফিয়ারা

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এখন যেন মাদকের হটস্পট। এই দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের এমন কোনো ওয়ার্ড, পাড়া বা মহল্লা নেই যেখানে ইয়াবা ও আইসের রমরমা ব্যবসা চলছে না। গ্রাম থেকে শহর, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিজাত এলাকা—সর্বত্রই মাদকের ছড়াছড়ি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার মধ্যেও থামছে না মাদকের সুনামি। বরং কৌশল বদলে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সীমান্তের মাদক মাফিয়ারা।

তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ দিনে সীমান্তে বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্পেশাল ফোর্স এসআরবি'র পৃথক অভিযানে প্রায় ২০ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৮ জন মাদক কারবারিকে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এটি মোট পাচারের মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি ৯০ শতাংশই নানা কৌশলে দেশের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'আরকান আর্মি (AA) এখন এই মাদক সাম্রাজ্যের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্য এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা ও আইস (ক্রিস্টাল মেথ) পাচারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আরকান আর্মি।

মিয়ানমারের শান রাজ্যের গহীন জঙ্গলে উৎপাদিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও আইস। সেই মাদক রাখাইন হয়ে বাংলাদেশে আসে। নাফ নদী এবং কক্সবাজার সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে আরকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে এই রুটগুলোতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে।

একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সামরিক কার্যক্রম, অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা এবং রাখাইনে তাদের সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ফান্ড সংগ্রহের প্রধান উৎসই হলো মাদক সিন্ডিকেট থেকে আদায় করা 'ট্যাক্স'।

প্রতি লাখ ইয়াবা পাচারের জন্য আরকান আর্মি ২-৩ লাখ টাকা ট্যাক্স নেয়। তারা সরাসরি মাদক উৎপাদনের সাথে জড়িত না থাকলেও মূলত সেফ প্যাসেজ বা নিরাপদ করিডোর হিসেবে কাজ করে। মিয়ানমারের মূল উৎপাদক গোষ্ঠী (ওয়া স্টেট আর্মি) থেকে মাদক এনে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন চোরাকারবারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।

আরকান আর্মির ছত্রছায়ায় আসা মাদকের একটি বড় অংশ উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ অপরাধী চক্রগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পের কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি আরকান আর্মির এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। তারাই নাফ নদী পার করে মাদক রিসিভ করে, ক্যাম্পে গোপন গোডাউনে মজুত করে এবং পরে খুচরা কারবারিদের মাধ্যমে সারা দেশে পাচার করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় মাফিয়ারা এখন বদলে ফেলেছে কৌশল। আগে বড় ট্রলারে চালান আসলেও এখন ছোট ছোট নৌকা, জেলেদের ছদ্মবেশ, এমনকি পাহাড়ি ছড়া ও গহীন জঙ্গলের পায়ে হাঁটা পথ ব্যবহার করছে তারা। দিনের বেলায় পাচার কমিয়ে তারা বেছে নিয়েছে গভীর রাত ও ভোরের সময়। এছাড়া ইয়াবার পাশাপাশি এখন বেশি আসছে উচ্চমূল্যের আইস, যা লুকানো সহজ।

বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), পুলিশ ও কোস্ট গার্ড নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রতিদিন ইয়াবা, আইস এবং অস্ত্রসহ অনেক মাদক কারবারিকে আটক করলেও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদকের রুটগুলো সক্রিয় থাকায় পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আরকান আর্মি এই সীমান্ত অঞ্চলে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করে তুলেছে, যা বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা বলছেন, শুধু বিজিবি-কোস্ট গার্ড দিয়ে এই সুনামি ঠেকানো সম্ভব নয়। মাদক সিন্ডিকেটের আর্থিক উৎস বন্ধ করতে হলে প্রয়োজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত কঠোর পদক্ষেপ, সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তির নজরদারি বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পের ভেতরের এজেন্ট নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া।

মোঃ আরাফাত সানি 
টেকনাফ (কক্সবাজার)

রিটেলেড নিউজ

মাঝসমুদ্রে অনিশ্চিত জীবন, ঝুঁকি নিয়ে স্বপ্নের পথে মালয়েশিয়া

মাঝসমুদ্রে অনিশ্চিত জীবন, ঝুঁকি নিয়ে স্বপ্নের পথে মালয়েশিয়া

আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ পাà...বিস্তারিত


পেকুয়ায় প্রবাসীর  জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

পেকুয়ায় প্রবাসীর  জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

পেকুয়া প্রতিনিধি :: : নূর মোহাম্মদ, পেকুয়া: কক্সবাজারের পেকুয়ায় চার শতক বসতভিটার জায়গা জবরদখলকে কেন্দ্র করে সৌদি প্রবà¦...বিস্তারিত


চকরিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ আটক ৩ সন্ত্রাসী 

চকরিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ আটক ৩ সন্ত্রাসী 

আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫ টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন সন্ত্রাসী ...বিস্তারিত


টেকনাফে যৌথ অভিযানে অপহৃত ৪ ভিকটিম উদ্ধার, আটক-১

টেকনাফে যৌথ অভিযানে অপহৃত ৪ ভিকটিম উদ্ধার, আটক-১

আমাদের ডেস্ক : : টেকনাফে ১৬ এপিবিএন ও টেকনাফ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহৃত চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ...বিস্তারিত


তিন্দুর পাহাড়ি সড়কে মর্মান্তিক পরিণতি: খাদে ল্যান্ডক্রুজার, প্রাণ গেল ২ পর্যটকের

তিন্দুর পাহাড়ি সড়কে মর্মান্তিক পরিণতি: খাদে ল্যান্ডক্রুজার, প্রাণ গেল ২ পর্যটকের

আমাদের ডেস্ক : : ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে। বান্দরবানের থানচি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র তিন্দু মুখ এà¦...বিস্তারিত


সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৭৬ জন উদ্ধার, আটক ১১ মানবপাচারকারী

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৭৬ জন উদ্ধার, আটক ১১ মানবপাচারকারী

টেকনাফ প্রতিনিধি : : সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সময় একটি ঝুঁকিপূর্ণ বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেà...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় আন্তর্জাতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামের মেধাবী সন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তীর যোগদান

ক্যালিফোর্নিয়ায় আন্তর্জাতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামের মেধাবী সন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তীর যোগদান

আমাদের ডেস্ক : : ডেস্ক রিপোর্ট :: চট্টগ্রামস্থ  লোহাগাড়ার  কৃতি সন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী ক্যালিফোর্নিয়ায় à...বিস্তারিত


টেকনাফে ১.৬৩ একর জমির সৃজিত ৩৬৩৫ খতিয়ান বাতিল, মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত

টেকনাফে ১.৬৩ একর জমির সৃজিত ৩৬৩৫ খতিয়ান বাতিল, মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত

ইমরান নূর: কোঅর্ডিনেটর :   আয়াছ রনি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল মৌজায় ১ দশমিক ৬৩০২ একর জমি নিয়à...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর