শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৩:২৫ পিএম, ২০২৫-০৩-০৫
দেশব্যাপীই বন্যপ্রাণী নিধন বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর—এ পাঁচ মাসে দেশে ৩ হাজার ৩০৪টি বন্যপ্রাণী আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতে মৃত্যু হয়েছে ২৬৯টির। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশব্যাপী বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা পরিবেশকর্মী, বন অধিদপ্তর ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে একটি গবেষণা করে বেঙ্গল ডিসকভার। তাদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আগস্টে বন্যপ্রাণী আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ৪৪টি। ডিসেম্বরে তা বেড়ে ১ হাজার ৭১৬টিতে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে বন্যপ্রাণী আক্রান্তের ঘটনা ঘটে ৪৪৩টি, অক্টোবরে ৬০৪ ও নভেম্বরে ৪৯৭টি। বন্যপ্রাণী আক্রান্তের দিক দিয়ে বিভাগভিত্তিক অবস্থানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। দেশের মোট আক্রান্তের ২৬ শতাংশই হয়েছে সেখানে। তার পরের অবস্থানে ঢাকা, ১৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, মাত্র ২ শতাংশ।
দেশের অন্যতম পাহাড়ি প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ১ হাজার ৭৯৫ হেক্টর আয়তনের এ বনভূমি অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃত। এর পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৭ মিটার। রেমা-কালেঙ্গার বনে পাঁচ প্রজাতির কাঠবিড়ালীর দেখা মেলে। এর মধ্যে বিরল প্রজাতির মালায়ন বড় কাঠবিড়ালীর বসবাস কেবল এ বনেই। তিন প্রজাতির বানর কুলু, রেসাস আর লজ্জাবতীরও দেখা মেলে এ অভয়ারণ্যে। বনটিতে ১৮ প্রজাতির সরীসৃপের মধ্যে কোবরা, দুধরাজ, দাঁড়াশ ও লাউডগা রয়েছে। এর বাইরে ১৬৭ প্রজাতির পাখির মধ্যে ভীমরাজ, টিয়া, হিল ময়না, লাল মাথা কুচকুচি, সিপাহি বুলবুল, বসন্তবাউরি, শকুন, মথুরা, বনমোরগ, প্যাঁচা, মাছরাঙা, ইগল, চিলসহ নানা জাতের পাখি দেখার সুযোগ রয়েছে এ বনে।
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যঘেঁষেই হাতিমারা চা বাগানের অবস্থান। গত ২৩ জানুয়ারি বন্যপ্রাণী হত্যার এক নির্মম ঘটনা ঘটে সেখানে। কর্তৃপক্ষ তাদের ইজারা নেয়া জমিতে বাগান সম্প্রসারণের জন্য গাছ কেটে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতে পুড়ে মারা যায় হনুমান, মায়াহরিণ, বিরল প্রজাতির কাঠবিড়ালী, পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। অনেক প্রাণী আহতও হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হাতিমারা চা বাগানের জন্য ইজারা নেয়া জায়গাটি বনের মায়াহরিণের কাছে খুব পছন্দের। সেখানে থাকা আউলা নামের একটি গাছের ফল খায় এগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী অপরাধের মাত্রা আগে থেকেই শোচনীয়। তবে আগস্টের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে নীরবে এ অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেও বেশ কয়েকটি পাচারকারী চক্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন পুলিশ ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। গত ৭ নভেম্বর কক্সবাজারে মহেশখালী শাপলাপুরের বারিয়ারছড়ি এলাকায় পাহাড়ের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১২টি বিলুপ্তপ্রায় হনুমান পাচারকালে উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শাপলাপুরের বারিয়ারছড়ি এলাকার পাহাড়ের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে একদল বনদস্যু বিলুপ্তপ্রায় ১২টি হনুমান পাচারের জন্য খাঁচায় আটকে রেখেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাচ্চাসহ ১২টি হনুমান উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানীতেও ধরা পড়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধীরা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে বিপন্ন প্রজাতির আটটি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধার করে ডিএমপির ডিবি ওয়ারী বিভাগ। ডিবি ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি পাচারকারী চক্রের কিছু সদস্য বিপন্ন প্রজাতির কিছু বন্যপ্রাণী পাচারের জন্য যাত্রাবাড়ী এলাকা হয়ে যাচ্ছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপন্ন প্রজাতির আটটি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধারসহ পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। আমাদের নিজস্ব লোকবল আছে। আমাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে পুলিশ আছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মিনি চিড়িয়াখানার নাম দিয়ে অনেকে বন্যপ্রাণী আটকে রেখেছে। আমরা সেগুলো অবমুক্ত করে দিচ্ছি। আমাদের কাজ থেমে নেই।’
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, তিন-চার বছর ধরে সুন্দরবনে বাঘ হত্যার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু চার-পাঁচ মাসের মধ্যে হঠাৎ করে বন্যপ্রাণী পাচার ও হত্যা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দুটি বাঘ হত্যা করা হয়েছে। একটি বাঘ মৃত উদ্ধার এবং আরেকটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। নবীনগর, ফেনী, বান্দরবান ও সাতক্ষীরায় বেশকিছু দুর্লভ প্রজাতির বানর, উল্লুক, হনুমানসহ সাত-আটটি বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৫০৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আগস্টে ২৮টি, সেপ্টেম্বরে ১৮৯, অক্টোবরে ১৬৮, নভেম্বরে ৫৬৯ ও ডিসেম্বরে ১ হাজার ৬৫৬টি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঢিলেমির কারণে বন্যপ্রাণী পাচার ও শিকারকারী চক্র আরো সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. নিয়ামুল নাসের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের জন্য এ সময়টা খুবই ভালো। সরকার এখন আইন-শৃঙ্ক্ষলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে মনোযোগী। এ সুযোগে বন্যপ্রাণী পাচার, শিকার ও হত্যা বেড়েছে। কেউ ব্যাগে করে একটা মেছো বাঘ বা হনুমান নিয়ে গেল, পুলিশ হয়তো তার ব্যাগটা চেক করবে না। অথবা একশটা ঘটনার মধ্যে একটা-দুইটা ধরল। কিন্তু বড় অংশই এমন পরিস্থিতিতে অধরা থেকে যায়। তাই সরকারকে এ বিষয়ে আরো মনোযোগী হতে হবে।’
বন্যপ্রাণী অপরাধের হটস্পটগুলোয় নজরদারি বাড়ালেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেও মনে করেন বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) এই মেম্বার ফেলো।
বেঙ্গল ডিসকভারের গবেষণায় বলা হয়েছে, বন্যপ্রাণীর মধ্যে গড়ে সবেচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর হার ৩৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে পাখিজাতীয় প্রাণী, আক্রান্তের হার ২৯ শতাংশ। সরীসৃপজাতীয় প্রাণী আক্রান্তের হার ২৫ ও জলজ প্রাণী ৯ শতাংশ।
গবেষণায় প্রজাতিভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে হাতি আক্রান্ত হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। মুখপোড়া হনুমান সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে, ৪০ শতাংশ। এছাড়া মেছো বিড়াল আক্রান্তের হার ৬ দশমিক ২৫ ও বানর ১১ শতাংশ। পাখির মধ্যে টিয়া আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি, ৩৪ শতাংশ। আর সরীসৃপের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কচ্ছপ, ৯৪ শতাংশ। তার পরে রয়েছে অজগর ও গুইসাপ।
আমাদের ডেস্ক : : বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে জনমানুষ, দেশ এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি নত...বিস্তারিত
বিশেষ প্রতিবেদক: : বিশেষ প্রতিবেদক : কক্সবাজার জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী রেজাউল করিম অবশেষে দুর্নীতির মামলায় গ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দুর্ভোগ-জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যো...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাহিদা পূরণে সিএনজি স্টেশনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছ...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস :: : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানবতা বি...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস :: : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আরও দুজন নতুন বিশেষ সরকারি নিয়োগ দেওয়া...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited