শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৯:৪৬ পিএম, ২০২৬-১০-০৬
কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোহেলিয়া নদী ফের দূষন ও ভরাটের কবলে পড়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ধলঘাটা ইউনিয়ন থেকে অধিগ্রহণ করা লবণ ও চিংড়ি চাষের জমি ভরাট করতে সাগর থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব জমি ভরাটের পলিমাটি ও বিভিন্ন বর্জ্য পাশের কোহেলিয়া নদীতে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে আগে থেকেই নদীটি ভরাট, দখল ও দূষণের চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে বন্দরের জমি ভরাটের পলিমাটি নদীতে পড়ায় নাব্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নদীনির্ভর জেলে, লবণচাষি ও চিংড়ি চাষিরা পড়েছেন চরম উদ্বেগে।
নদীর দুই পাশে রয়েছে শতাধিক চিংড়ি প্রকল্প এবং বিপুলসংখ্যক লবণচাষি। স্থানীয়রা জানান, কোহেলিয়া নদীর পানি ব্যবহার করেই এসব প্রকল্পে চিংড়ি চাষ ও লবণ উৎপাদন করা হয়। নদীতে নিয়মিত পলিমাটি ও বর্জ্য ফেলা হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পানি দূষিত হয়ে চিংড়ি চাষ ও লবণ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোছাইন বলেন, “নদীতে এখন মাছের বদলে পলিমাটি ও বিভিন্ন বর্জ্য ঢুকছে। এতে জেলেদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।”
জেলে একরাম বলেন, “বন্দরের জায়গা ভরাটের পলিমাটি ক্যানেল কেটে নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে আমাদের জালে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। নদীতে জাল ফেললে পলিমাটির মধ্যে আটকে যাচ্ছে।”
আরেক জেলে ছবুর আলম বলেন, নদীর পানি যেভাবে ঘোলাটে হয়ে গেছে, তাতে সাগর থেকে মা মাছ নদীতে আসার পরিবেশও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এভাবে নদী ধ্বংস করা হলে কয়েক হাজার জেলে পরিবারের জীবনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় চাষিরা জানান, নদীর পানি দূষিত হলে চিংড়ি চাষ ও লবণ উৎপাদন উভয়ই ব্যাহত হবে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন কমবে, অন্যদিকে নদীনির্ভর মানুষের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
একসময় ভরা যৌবন ও গভীরতায় স্রোতের দাপটে প্রাণবন্ত ছিল কোহেলিয়া নদী। নৌপথে পণ্যবাহী বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। মহেশখালীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নদীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে নদীটি ক্রমেই সংকুচিত ও দূষিত হচ্ছে। নদীর বুক দখল করে সড়ক নির্মাণসহ নানা কর্মকাণ্ডের ফলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্জ্য, পলি ও দখল-দূষণের কারণে নদীটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মহেশখালীর বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোহেলিয়া নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীটি ধ্বংস হলে জেলে, লবণচাষি, চিংড়ি চাষি, নৌযান শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কোহেলিয়া নদী রক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহসিন বলেন, “মহেশখালীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া কোহেলিয়া নদী মহেশখালীর প্রাণ। মহেশখালীবাসীর কাছে এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষকে বাঁচাতে হলে আগে কোহেলিয়া নদীকে বাঁচাতে হবে।”
উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “কোহেলিয়া নদী শুধু একটি নদী নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা। নদীটি বাঁচলে জলজ প্রাণী ও পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।”
তিনি আরও বলেন, কোহেলিয়া নদী ধ্বংস হলে নদীনির্ভর হাজারো জেলে, লবণচাষি, চিংড়ি চাষি ও বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিক তাদের পেশা হারাতে পারেন। এতে বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। “একটি নদীকে ধ্বংস করে কখনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন করতে হলে পরিবেশ ও নদী রক্ষা করেই করতে হবে,” বলেন তিনি।
এদিকে কোহেলিয়া নদীতে বন্দর নির্মাণের জমি ভরাটের পলিমাটি ও বর্জ্য ফেলার বিষয়টি তাদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, কোহেলিয়া নদীতে পলিমাটি ও বর্জ্য ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আমাদের ডেস্ক : : টেকনাফে ১৬ এপিবিএন ও টেকনাফ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহৃত চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান অপহরণ ও হতà...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : উত্তরের পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বের সীমান্ত শহর কক্সবাজার— দেশের দুই প্রান্তকে সরাসরি এক সুতোয়...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : বান্দরবানের আলীকদম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, বন ও বৈচিত্র্যময় কৃষিজ উৎপাদনে সমৃদ্ধ একটি পাহাড়ি à¦...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সময় একটি ঝুঁকিপূর্ণ বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেà...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের উদ্যোগে বিভিন্ন মাদক মামলার ৯৯ কোটি ৩১ লà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited