শিরোনাম
খবর বিজ্ঞপ্তি | ০৬:১০ পিএম, ২০২৬-০৯-১৪
আয়াছ রনিঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজায় চলমান তসদিক বা সত্যায়ন কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন ভূমি মালিকদের একটি বড় অংশ। চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ভূমি মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করে মাঠ পর্চা তসদিক বা সত্যায়ন করে নিচ্ছেন। পর্চায় কোনো ধরনের ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে বিবাদ ফর্মে লিখিত আপত্তি (ডিস্পোর্ট) দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
সরেজমিনে কক্সবাজার দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন ক্যাম্প ঘুরে এবং ভূমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের টেবিলে গিয়ে অনেকেই সহজেই তসদিকসহ প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। কোনো খতিয়ানে আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে গ্রহণের পর বিধি অনুযায়ী নোটিশ জারি এবং উভয় পক্ষের শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ক্যাম্পে আসা কয়েকজন ভূমি মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার পর তাদের কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মতিউর রহমান, আলতাফ হোসেন, মুফিজুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ ও নজরুল ইসলামের আচরণ ও সেবা নিয়ে প্রশংসা করতেও শোনা যায় স্থানীয়দের।
টেকপাড়ার বাসিন্দা আবদুল্লাহ বলেন, “ঝিলংজা মৌজায় কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খতিয়ান স্বাক্ষর করে দেওয়া হচ্ছে।”
কলাতলীর বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, “জরিপ ক্যাম্পে আসার পথে কয়েকজন স্থানীয় দালাল আমাকে খতিয়ানে ডিস্পোর্ট দিতে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য অনেক টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছিল। পরে আমি সরাসরি সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মতিউর রহমানের কাছে গিয়ে জমির কাগজপত্র দেখাই। তিনি তার সহকারীর মাধ্যমে ডিস্পোর্ট গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানান। এজন্য আমাকে কোনো টাকা দিতে হয়নি।”
জেলগেট এলাকার আবলু সালাম জানান, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আলতাফ হোসেন, প্রজ্ঞা ও নজরুল ইসলামের কাছে তার জমির খতিয়ান তসদিক করতে কোনো টাকা দিতে হয়নি। কাগজপত্র সঠিক থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তসদিক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জরিপ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে তসদিক বা সত্যায়ন। এ পর্যায়ে ভূমি মালিকরা মূল বিএস খতিয়ান, দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে মাঠ পর্চার তথ্য যাচাই ও সত্যায়ন করতে পারেন। খতিয়ানে কোনো ভুল, তথ্যগত অসঙ্গতি বা মালিকানা-সংক্রান্ত আপত্তি থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবাদ ফর্মে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আলতাফ হোসেন বলেন, “ঝিলংজা মৌজার তসদিক ধাপটি ভূমি মালিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পর্যায়ে মূল বিএস খতিয়ান, দলিল, নামজারি ও খাজনার দাখিলা নিয়ে মাঠ পর্চা সত্যায়ন করে নিতে হবে। পাশাপাশি খতিয়ানে কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে বিবাদ ফর্মে আপত্তি জানিয়ে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”
অফিসে স্বস্তি, বাইরে দালাল নিয়ে অস্বস্তিঃ
তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে ক্যাম্পের ভেতরের সেবাব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টির পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরের পরিবেশ নিয়ে কিছু অভিযোগও পাওয়া গেছে। কয়েকজন ভূমি মালিক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তির অভিযোগ, অফিসের কিছু পিয়ন ও সহকারীর সঙ্গে স্থানীয় কিছু দালালের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে জরিপসংক্রান্ত কাজে ক্যাম্পে আসা ভূমি মালিকদের একটি অংশ প্রথমেই দালালদের খপ্পরে পড়ছেন।
স্থানীয় কয়েকজন সুশীল সমাজের ব্যক্তি বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে কর্মকর্তাদের সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাইরে দালালদের তৎপরতা থাকলে পুরো জরিপ কার্যক্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাদের মতে, কাগজপত্রে ত্রুটি বা জটিলতা থাকলে অনেক ভূমি মালিক নিজেরাই বিষয়টি বুঝতে না পেরে দালালদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দালালরা বিভিন্ন কাজের কথা বলে অর্থ দাবি করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
তাদের দাবি, জরিপ ক্যাম্পের আশপাশে দালালদের তৎপরতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমি মালিকদের সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আরও সচেতন করা জরুরি।
দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসঃ
সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, “ঝিলংজা মৌজার ভূমি মালিকদের কোনো দালালের মাধ্যমে না এসে সরাসরি ক্যাম্পে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি। বৈধ কাগজপত্র নিয়ে এলে খতিয়ান সত্যায়ন, ডিস্পোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাজ সরাসরি সম্পন্ন করা যাবে। ইতোমধ্যে দালালদের বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো যাচাই করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, তসদিক পর্যায়ে ভূমি মালিকদের সরাসরি সেবা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন জরিপ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে দালালনির্ভরতা কমবে। তাই ক্যাম্পের ভেতরে বর্তমান সেবাব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরে দালালদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য বলছে—ঝিলংজা মৌজার তসদিক কার্যক্রমে সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা পেয়ে অনেক ভূমি মালিক স্বস্তি প্রকাশ করলেও, দালালদের তৎপরতার অভিযোগটি পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
খবর বিজ্ঞপ্তি : আয়াছ রনি।। কক্সবাজার সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মৌজা ঝিলংজা। পর্যটননির্ভর কক্সবাজার শহরের বিস্ত...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেক...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : রাজধানীতে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মর...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের চকরিয়ায় দিনদুপুরে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ৬-৭ জনের একদল ডাকাত বাড়িতে ঢুকে বাড়ির লোক...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া দুই বন্ধুকে...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোরতার মাঝেও টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited