শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক: | ০৪:৩৪ পিএম, ২০২৫-১১-০৪
বিশেষ প্রতিবেদক :
কক্সবাজার জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী রেজাউল করিম অবশেষে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরিত হয়েছেন। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
জানা গেছে, জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারচুপি, নিম্নমানের কাজ, ও ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প — কোনো খাতই বাদ যায়নি তার কমিশন বাণিজ্যের হাত থেকে।
দুর্নীতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আদালত অবশেষে রেজাউল করিমকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রশাসনিক সূত্র মতে, একাধিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
ভাই ইসহাক: জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অদৃশ্য প্রভাবশালী:
রেজাউলের ভাই মোহাম্মদ ইসহাক, বর্তমানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় এডিসির সিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী একই স্থানে তিন বছরের বেশি সময় চাকরি করা নিয়মবিরুদ্ধ হলেও, ইসহাক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন — যা প্রশাসনিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ইসহাক ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদের সুপারিশে চাকরি পান। সেই সময় চট্টগ্রামের এক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এই নিয়োগে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই ইসহাক রাজস্ব শাখায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
সূত্র মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুই জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর মাধ্যমে এল এ মামলার বাণিজ্য করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানের সরকারের উন্নয়নের অধিগ্রহণ কৃত জমির মালিকদের কাছ থেকে।
আওয়ামী আমলের সুবিধা ভোগী এই ইসহাক এখনো বহাল তবিয়তে রাজস্ব শাখার গোপনীয় সহকারী হিসেবে।
অনুসন্ধানে জানা যায় ,দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব শাখার নানা কাজে তিনি দালালচক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। অনেকেই বলেন, ইসহাকের অনুমতি ছাড়া রাজস্ব শাখায় কোনো ফাইল নড়ে না।এলএ শাখার অধিগ্রহণকৃত জমি সংক্রান্ত মামলাগুলোর চেকে ইসহাকের দালাল চক্র অভিযোগ-উত্তোলন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। জমির মালিকদের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে চেক আটকে দেওয়া হয়, পরে গোপনে কমিশনের বিনিময়ে সেই অভিযোগ তোলা হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, আর ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ জমির মালিকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসহাক কক্সবাজার শহর ছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীতে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার বিরুদ্ধে শিগগিরই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে একাধিক নাগরিক সংগঠন।
কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে রাজস্ব শাখার এই অনিয়মের তদন্ত করতে হবে। দীর্ঘদিন এক জায়গায় থেকে দালালদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, জনগণের সেবার বদলে হয়রানি সৃষ্টি — এগুলো প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতা খোরশেদ আলম বলেন, কক্সবাজারের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে রেজাউল ও ইসহাকের মতো প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। দুর্নীতির জাল না কাটলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হবে।
রেজাউল করিমের কারাদণ্ড প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক প্রতীকী বার্তা দিয়েছে। তবে তার প্রভাবশালী ভাই মোহাম্মদ ইসহাকের কর্মকাণ্ডও যদি এখনই থামানো না যায়, তাহলে কক্সবাজারের রাজস্ব শাখা অচিরেই দুর্নীতির আস্তানায় পরিণত হবে — এমন আশঙ্কা সাধারণ মানুষের।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী ইসহাক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান - তার বিরুদ্ধে সরাসরি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেন তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন এর কাছে রাজস্ব শাখার সিএ ইসহাকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান -জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় ইসহাক দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে কর্মরত আছেন-এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘুষ বা দালালচক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কাছে আসেনি বলেও জানান তিনি। সাধারণ নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ থাকলে বা রাজস্ব শাখার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে, তারা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন বলে পরামর্শ দেন তিনি।
আমাদের ডেস্ক : : চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাশেদা বেগম (৩...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : মৎস্য চাষ ও উৎপাদনে অসামান্য অবদান রাখায় ৪ জনকে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। 'রূপালি মৎস্যে ...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : টেকনাফ সদরের ডেইল পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া টেকনাফ মাদ্রাসার ছাত্র, হাফেজ আর...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জান...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : নীল জলরাশির বুকজুড়ে প্রবাল, সাদা বালুর সৈকত আর সারি সারি নারকেলগাছ-প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সেন্ট...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited