শিরোনাম
অনলাইন ডেস্ক: | ০৭:৫৮ পিএম, ২০২৬-০৮-২৩
চট্টগ্রাম সরকারি নাসিরাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জামালুদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষকতার আড়ালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি, জাল দলিল সৃজন, প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের জমি আত্মসাৎ এবং ভূমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামীলীগের তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী জাবেদকে ঘিরে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে জমি সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে তার দখলে বা মালিকানায় এসেছে প্রায় অর্ধশত কানি জমি।
এ ছাড়া অতীতে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য কলেজিয়েট স্কুল থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জামালুদ্দিন কে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছিল। ওই প্রভাবশালী সম্পর্কের কারণে সুপারিশের মাধ্যমে তিনি আবার চট্টগ্রাম সরকারি নাসিরাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিভিন্ন নথি, দলিল ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা যায়, শুধু জমি ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং অন্যের সম্পত্তির ওয়ারিশানা পরিবর্তন, ভুয়া ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার, এক ব্যক্তির নামের পরিবর্তে অন্যের ডাকনাম ব্যবহার করে দলিল সম্পাদন, এক মৌজার জমির পরিবর্তে অন্য এলাকায় জমি দখল এবং জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সমাজসেবী হাবিবউল্লাহর জমি আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৯ নম্বর পরৈকোড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বক্স তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা ও সমাজসেবী হাবিবউল্লাহর জমি সংক্রান্ত। হাবিবউল্লাহ দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করা ও স্থানীয়ভাবে সহজ-সরল হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগ নিয়ে তার প্রতিবেশী জামালুদ্দিন তার কাছ থেকে একটি পুকুর কেনার সময় চুক্তির বাইরে থাকা আরও কয়েকটি জমির দাগ দলিলে অন্তর্ভুক্ত করেন।
হাবিবউল্লাহ এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিংরোল মৌজার ৬৫২ নম্বর দাগের ০১৭০ শতাংশ পুকুরের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে হাবিবউল্লাহকে ১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সম্পাদিত দলিলে ওই পুকুরের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাগ ও জমির বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলিলের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫৭ নম্বর দাগে ০৩০০ শতাংশ স্থাপনা-বিহীন বাড়ির জমির মূল্য ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৭৯৫, ৭৯৬, ৩৩৩ ও ৭৪৪ নম্বর দাগে মোট ০২৩০ শতাংশ নাল জমির মূল্য ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অতিরিক্ত জমি বিক্রির বিষয়ে হাবিবউল্লাহকে অবহিত করা হয়নি। ফলে মাত্র ১ লাখ টাকা গ্রহণের পর তিনি জানতে পারেন, তার আরও কয়েকটি জমি একই দলিলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় তাঁর দাবি, পুকুর বিক্রির নামে চুক্তির বাইরে থাকা জমিগুলোও দলিলে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার ফলে তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরির অভিযোগ
জামালুদ্দিন এর বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো - অন্যের সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি ও ব্যবহার।
সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২৩ আগস্ট ২০১৪ তারিখে চারটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়। পরবর্তীতে ওই সনদে অসঙ্গতি ধরা পড়লে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ ২০ জুন ২০১৫ তারিখে সেটি বাতিল করে নতুন করে সঠিক ওয়ারিশ সনদ প্রদান করে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যদি আগের ওয়ারিশ সনদটি ভুয়া বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়ে থাকে এবং ইউনিয়ন পরিষদ সেটি বাতিল করে থাকে, তাহলে ওই সনদের ভিত্তিতে সম্পাদিত দলিল ও পরবর্তী নামজারির বৈধতা কীভাবে বহাল থাকে?
তাদের দাবি, ওয়ারিশ সনদ বাতিল হলেও সংশ্লিষ্ট জমির দলিল ও দখল নিয়ে জটিলতা থেকে যায়। ফলে একটি প্রশাসনিকভাবে বাতিল নথির ভিত্তিতে কীভাবে জমির মালিকানা বা দখল বজায় রাখা হলো, তা তদন্তের দাবি রাখে।
১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালের দলিল ঘিরে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৭৮ সালে ১৫ গণ্ডা ১ কড়া জমি নিয়ে একটি জাল দলিল সৃজন করা হয়, যার দলিল নম্বর ৩৭৩৭ এবং তারিখ ১৬ জুলাই ১৯৭৮। পরবর্তীতে ওই দলিলের ভিত্তিতে ২০১৪ সালে নামজারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এ ছাড়া ১৯৯১ সালে প্রায় ১২ শতক জমি নিয়ে আরও একটি জাল দলিল সৃজনের অভিযোগ রয়েছে, যার দলিল নম্বর ১৭৮৪ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব দলিলের মালিকানা, ওয়ারিশানা এবং পরবর্তী নামজারির ধারাবাহিকতা যাচাই করলে ভূমি জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
বিশেষ করে ১৯৭৮ সালের দলিলের প্রায় ৩৬ বছর পর ২০১৪ সালে নামজারি হওয়া, ওয়ারিশ সনদের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট জমির দখল - সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এক জায়গার দলিল, অন্য জায়গায় দখলের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কাগজপত্রে যে মৌজা বা দাগের জমির মালিকানা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার দখল নেওয়া হয়েছে অন্য এলাকায়।
শিলাইগড়া মৌজার জমির কাগজপত্র ব্যবহার করে ভিংরোল এলাকায় জমি দখল করেছে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ভূমি অফিসের রেকর্ড, আরএস ও বিএস খতিয়ান, নামজারি খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং সরেজমিন জরিপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক ব্যক্তির নামে জমি, অন্য ব্যক্তির নামে নামজারি?
অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, আমিরা খাতুনের নামে থাকা দলিল ব্যবহার করে খোসজানের জমি নামজারি করা নেয়। এছাড়া একজনের নামের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির ডাকনাম ব্যবহার করে দলিল সম্পাদন এবং প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে ভিন্ন ব্যক্তির নামে জমি গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল দলিল, দলিল লেখকের রেজিস্টার, বালাম বই, নামজারি মামলা এবং ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাই করলে তথ্য বেরিয়ে আসবে।
আদালতে চলমান মামলার তথ্য
জালালুদ্দিন এর বিরুদ্ধে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অভিযোগের জেরে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এর মধ্যে পটিয়া আদালতে ১৫১/১৪ ও ৩৬০/১৫ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, মামলার পক্ষগুলো, অভিযোগের ধরন এবং আদালতের সর্বশেষ আদেশ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে সম্পত্তির প্রকৃত হিসাব
অভিযোগকারীদের দাবি, জামালুদ্দিনের নামে, তার পরিবারের সদস্যদের নামে কিংবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পত্তির দলিল, নামজারি ও দখল তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে গত কয়েক দশকে তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে সম্পাদিত দলিল, ওয়ারিশ সনদ, নামজারি এবং জমির দাগ নম্বর যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্পত্তির হিসাব তৈরির দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক যদি প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ, জাল দলিল কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তির নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জামালউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ভুক্তভোগী হাবিবউল্লাহর সঙ্গে তিনি অশোভন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা ও বাতিল হওয়া ওয়ারিশ সনদের সত্যতা পরীক্ষা এবং আদালতে চলমান মামলাগুলোর নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র:
--https://surl.li/cvforw
অনলাইন ডেস্ক: : চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বেঙ্গুরা ইউনিয়নের ইমাম উল্লার চর গ্রামের কৃতি সন্তান শেখ মো...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারে পরীক্ষা দিতে কলেজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন আর্নিকা এনোয়াজ আইমন নাম...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে মো: সাইফুল ইসলাম (১৮০৭৩)কে নিয়োগ দেওয়া হ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আপনার এলাকার কোনো সংবাদ, সমস্যা, সম্ভাবনা, মানবিক গল্প, বিশেষ ফিচার কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে তা আ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোরে সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার না থাকায় রোগী ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ইসলামী হিজরি সনের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র জীবনের বহু ঐতিহাসিক ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited