শিরোনাম
অনলাইন ডেস্ক: | ০৮:৩৩ পিএম, ২০২৬-০৯-২৯
২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পর এই প্রত্যাহারকে ইরান ও তার মিত্ররা নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে।
তবে ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে এবং দেশটিতে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে। মার্কিন বাহিনী বুধবারের মধ্যে ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
ইরাকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সময়ে মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরান ও তার মিত্ররা ইরাকে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রতিপক্ষরাও আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ইরাক ছাড়ার ফলে ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হবে।
তার মতে, মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছিল। এখন সেই সামরিক উপস্থিতি চলে যাওয়ায় ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে।
আল-বাহাদলি আরও বলেন, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে প্রচার করবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে দাবি করেছেন।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান উদযাপন করব। একই সঙ্গে আমাদের দেশের ওপর বিদেশি শক্তির ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও উদযাপন করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইরাক প্রমাণ করেছে, বিদেশি শক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায় না। বরং জনগণের প্রতিরোধ ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি চলে যাওয়াকে অনেক ইরাকি স্বাগত জানালেও, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তি নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, এখনই মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
ফালুজার সুন্নি গোত্রের নেতা আব্দুল রহমান আল-জোবাই রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে ইরাক নিজের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সব ইরাকিই দেশের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চায়। এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এখন চলে গেলে দেশে নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এটাই ইরাকিদের সবচেয়ে বড় ভয়।’
২০০৩ সালে সুন্নি মুসলিম শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এরপর তারা দেশটি দখল করে এবং শিয়া-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে সহায়তা করে। ২০১১ সালের শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনারা ইরাকে বিদ্রোহ দমনের অভিযান চালায়। এরপর তারা দেশটি থেকে চলে যায়।
তবে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে। ওই যুদ্ধে ইসলামিক স্টেট পরাজিত হয়।
‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হন। আফগানিস্তানে চলা যুদ্ধের তুলনায় ইরাকে প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। আফগানিস্তানের যুদ্ধ ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে শেষ হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সময়ে ইরান মাঝে মাঝে ইরাকের ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। এরপর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে বারবার হামলা চালায়। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ৭ জনই ইরাকে নিহত হন। সর্বশেষ জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় এক মার্কিন সেনা সার্জেন্ট নিহত হন।
তথ্যসূত্র:
--https://shorturl.at/y6BD2
অনলাইন ডেস্ক: : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : সম্প্রতি ইসরায়েলের হাইফা শহরের আয়োজিত কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মহাসম্মেলন এবং এতে ইহুদিদের ব্যা...বিস্তারিত
ইমরান নূর: কোঅর্ডিনেটর : সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী হাফেজ মো. আবদুল্লাহ (৩৫–৩৬) নিখোঁজ হয়েছেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্à...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের আল-মুগাইর গ্রামে ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর রাতভর বর্বরোচিত তাণ্ড...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে একটি বাজারের কাছে দেশটির সামরিক ব...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২ হাজার ৩৬ জà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited