শিরোনাম
আয়াছ রনি | ০৮:২৭ পিএম, ২০২৬-০৪-০৫
আয়াছ রনি।।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার দেলোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বন্দীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থী, সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে কারাগারে নানা সুবিধা দেওয়া হলেও, টাকা না দিলে বন্দীদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত কঠিন করে তোলা হচ্ছে।
কারাগার মূলত অপরাধীদের সংশোধনের স্থান। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কারাগারের ভেতরে গড়ে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়ভীতির এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, জেলার দেলোয়ারের নেতৃত্বে কিছু কারারক্ষী ও কর্মকর্তার মাধ্যমে বন্দীদের কাছ থেকে টাকা আদায়, নির্যাতন এবং মাদক বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। এমনটা অভিযোগ করেন কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া অনেকে।
বিভিন্ন সূত্র, সাবেক বন্দী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারাগারের ভেতরে এক ধরনের অঘোষিত নিয়ম চালু রয়েছে—যেখানে টাকা থাকলে সুবিধা, আর টাকা না থাকলে নির্যাতন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কারাবন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতের নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর সাক্ষাতের সুযোগ থাকলেও, দরখাস্তসহ বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, সদ্য কারামুক্ত সাংবাদিক আরিফুল্লাহ নূরী অভিযোগ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে অনিয়ম ও দুর্নীতির শেষ নেই। কারাবিধি ও জেল কোডের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ইচ্ছেমতো বন্দীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, কারাগারে থাকা একাধিক বন্দীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলার দেলোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও জেলার দেলোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
জেল ফেরৎ আসামি করিম, এহসান, মামুনের অভিযোগ অনুযায়ী, যারা টাকা দিতে পারেন না তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। অনেক সময় তাদের আলাদা কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বন্দীকে ফিল্মি কায়দায় ধরে এনে ‘কেস টেবিল’-এ বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
একজন বন্দীর স্বজন জানান, তার আত্মীয়কে কয়েকবার মারধর করা হয়েছিল শুধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস দেখানোর কারণে।
টাকার বিনিময়ে কাজের বণ্টন: কারাগারের ভেতরে রান্নাঘর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মালামাল বহনসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। এসব কাজ সাধারণত বন্দীদের মধ্যেই বণ্টন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজ পেতে হলে দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা।
যারা টাকা দিতে পারেন তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক কাজে যুক্ত হন। এতে তাদের চলাফেরা ও যোগাযোগের সুযোগও বাড়ে। অন্যদিকে টাকা দিতে না পারা বন্দীরা এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, বন্দীরা যাতে একত্রিত হয়ে কোনো অভিযোগ করতে না পারে সেজন্য তাদের উপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়। কেউ যদি বেশি কথা বলতে বা আলোচনা করতে দেখা যায়, তখন তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে অনেককে ‘কেস টেবিলে’ নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয়। কেউ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে এমন খবর পাওয়া গেলে তাকে শাস্তিস্বরূপ ‘সেল’-এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কারাগারের ভেতরে মাদক বাণিজ্য:
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ ও বিক্রি নিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছু কারারক্ষী ও সুবেদারের মাধ্যমে বন্দীদের কাছে মাদক সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এতে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, কারাগারের বাইরে থাকা কিছু মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নিয়মিত মাদক সংগ্রহ করা হয় এবং পরে বিভিন্ন উপায়ে তা ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
অনুসন্ধানী বক্স–১: টাকার বিনিময়ে সুবিধার ‘অঘোষিত রেট তালিকা’ অনুসন্ধানে বন্দীদের: স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেতে অঘোষিতভাবে টাকা দিতে হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী—
* তুলনামূলক ভালো ওয়ার্ডে থাকার জন্য টাকা
* রান্নাঘর বা অন্যান্য কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য টাকা
* চিকিৎসা সুবিধা দ্রুত পাওয়ার জন্য টাকা
* নির্যাতন বা হয়রানি এড়ানোর জন্য টাকা
বন্দীদের স্বজনদের দাবি, এসব টাকা অনেক সময় সরাসরি আবার অনেক সময় মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয়।
অনুসন্ধানী বক্স–২: কারাগারে মাদক ঢোকার সম্ভাব্য পথ: সূত্রগুলো জানায়, কয়েকটি কৌশলে কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে—
* দর্শনার্থীদের মাধ্যমে গোপনে সরবরাহ
* কারাগারের ভেতরের কিছু কর্মচারীর সহযোগিতা
* বন্দীদের মাধ্যমে ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া
এভাবে কারাগারের ভেতরে একটি ছোট আকারের মাদক বাজার গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সাবেক বন্দী।
অনুসন্ধানী বক্স–৩: ভয়ভীতির কারণে মুখ খুলতে পারে না বন্দীরা:
বন্দীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, অনেক বন্দী কারাগারের ভেতরের অনিয়ম সম্পর্কে জানলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।
কারণ হিসেবে তারা বলেছেন—
* অভিযোগ করলে নির্যাতনের ভয়
* ‘সেল’-এ পাঠিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা
* সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি
এ কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশের আগেই চাপা পড়ে যায় বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে জেলার দেলোয়ার জাহান এর বক্তব্য জানতে ওনার সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি বক্তব্য না দেওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার কারাগারের জেল সুপার মোঃ ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যদি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম ঘটে থাকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেসব পুনরাবৃত্তির কোনো সুযোগ নেই। কারাগারে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে কারাগারের ভেতরের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
বিশেষ প্রতিবেদক: : রামুর খুনিয়াপালংয়ে সাবেক মেম্বারের দখলবাজি: মার্কেট থেকে পাহাড় পর্যন্ত বিশেষ প্রতিবেদক : কক...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ শিকার করা জেলেদের অপহরণ মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই আন্দোলনে মহেশখালীতে ছাত্রজনতার মিছিলে বাঁধা ও মারধরের অভিযোগে ১৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : টেকনাফে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে অপহরণকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের অপহৃত ১১ জন নার...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সাতকানিয়া উপজেলায় গণপিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন। সোমবার (৩ মার্চ) রাত ১০ট...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : উখিয়ায় পবিত্র মাহে রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদার...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited