শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক: | ০৪:০২ পিএম, ২০২৫-০৪-২৪
কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও নারীদের হয়রানি সহ নানা অভিযোগ উঠেছে সহকারি পরিচালক (এডি) মোবারক হোসেন ও অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ পাসপোর্ট অফিস তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবাপ্রার্থীরা। তাছাড়া এ অফিসের সেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। অভিযোগ আছে, এ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে গড়ে উঠেছে দালাল সিন্ডিকেট। তাদের যোগসাজশে রোহিঙ্গা ও গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের থেকে পাসপোর্ট বানানোর নামে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ সিন্ডিকেট অবৈধ পন্থায় পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়ে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। অভিযোগে আরও প্রকাশ পায় এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রক্ষরিক মো: আল মামুন। যিনি ৫ আগস্টের আগে নিজেকে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রভাবশালী নেতা হাসান মাহমুদের নিকট আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে অফিসের সবাইকে হুমকি-ধামকি দিত। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও সূত্রে প্রকাশ। মামুন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ সেলিমের পুত্র। সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদের এলাকার হওয়ায় ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে নাই। পান থেকে চুন কষলে অফিসের যে কাউকে বকাবকি করতো এবং অফিসে নিজের রাজত্ব ধরে রাখতো। তাকে দিয়ে সকল ধরনের পাসপোর্টের মোটা অংকের চুক্তি করে রোহিঙ্গা ফিঙ্গারদারি লোকদেরও পাসপোর্ট করে দেয়। অথচ পাসপোর্ট প্রার্থীদের অভিযোগ একজন প্রার্থী সম্পূর্ণ ডকুমেন্টস নিয়ে পাসপোর্ট জমা করতে গেলে সেখানে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফাইল ফেরত করে দেয়। অফিস দালালদের মাধ্যমে আসা ফরমগুলো আগে জমা নেয়। এমনকি তাদের লাইনও আগে ধরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ প্রতিটি ফাইলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে ঘুষ নেয় তারা। আবার সে সব ফাইলে সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া থাকে। যে কারণে কর্মকর্তারা বুঝতে পারে কোনটি ঘুষের ফাইল আর কোনটি ঘুষ ছাড়া।
অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ আল মামুন ছবি তোলার রুমে মেয়েদের সাথে অসৎ আচরণসহ নানা হয়রানি করে পাসপোর্ট সেবাপ্রার্থীদের।
এ ব্যাপারে একাধিক অভিযোগ দেওয়ার পরও মামুনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই এডি মোবারক হোসেন।
এই মামুন নানা অজুহাত দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের নিয়ে যায় এডি মোবারকের রুমে। আর সেখানে সুন্দরী নারীদের নিয়ে নানান তালবাহানা করে জিজ্ঞেসাবাদ চলে। মামুনের মাধ্যমে ফাইল জমা না করলে ছবি তোলার রুমে মহিলাদের হয়রানি করে। সুন্দরী নারীরা পাসপোর্ট করতে আসলে পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লীপ থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে। আবার অনেকে রাজি না হলে ছবি তোলা সহ ফাইল সাবমিট দিতে বিলম্ব করার অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে মামুনের নানার বাড়ি উখিয়ায় বলে হুমকি দেয় এবং তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না বলে উচ্চস্বরে বলে।
পাসপোর্ট অফিস ঘুরে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম মেনে পাসপোর্টের ফরম জমা দেওয়া যায় না কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসে। আর কোনো রকম জমা দিতে পারলেও সময়মতো পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। এই সিন্ডিকেটের হাতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতে টাকা তুলে দিলেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়। হোক না রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি। টাকায় মিলছেই পাসপোর্ট সেবা। সূত্রে আরও জানা যায়, সহকারি পরিচালক মোবারক হোসেন কক্সবাজার খরুশকুল থেকে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য বিয়ে করেন রমজানের এক মাস আগে। তার এই বিয়ে অনুষ্ঠানে অফিসের কর্মচারীদের কাছ থেকে ৪ ভরি স্বর্ণ উপহার গ্রহণ করে। যার বাজার মূল্য ৬ লক্ষ টাকা। এ টাকার উৎস নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন! তিনি যোগদানের পর থেকে কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের রেস্ট হাউসে দেড় বছর পর্যন্ত রাত্রিযাপন করেন। এবং নিজের ব্যক্তিগত খরচও অফিসিয়ালি চালিয়ে দেন। এছাড়াও পাসপোর্ট অফিসের রেস্ট হাউসে দেখা যায় বিভিন্ন মহিলাদের আনাগোনা। মামুনের মাধ্যমে সকল কাজকর্ম কন্ট্রাকে নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকার রাজ্য নিজের বদলি ঠেকানোর জন্য আওয়ামী লীগ পন্থী সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিউজ বন্ধ রাখনে তিনি। এছাড়াও এডি মোবারক হোসেন ছাত্রলীগের রাজনৈতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়।
পাসপোর্ট করতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আমরা ফজরের নামাজের পরে লাইনে দাঁড়িয়ে কোনরকম ফাইল জমা করতে পারলেও পরিপূর্ণ কাজ করতে পারিনা। পরের দিন আবার এসে দেখি সেখানে তাদের কিছু নির্দিষ্ট লোক আছে তাদের ছবি তুলা হচ্ছে। একটি পাসপোর্টের ফাইল সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে প্রায় ৩/৪ দিন আবার অনেকে ৭ দিনেও পারে না। নানান হয়রানি অতিক্রম করে পাসপোর্ট ফাইল জমা হলেও পাসপোর্ট পেতে সময় লাগে ১/২ মাস। তবে সবচেয়ে বেশী হয়রানির শিকার হয় ফিঙ্গার নিতে গিয়ে মহিলারা। ১০৬ নম্বর রুমে আল মামুন নানানভাবে মহিলাদের হয়রানি করে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি নারীদের সাথে দূর ব্যবহারও করে প্রতিদিন। এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভুল ধরে। পরে সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। দ্রুত এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি প্রার্থনা করেন এসব সেবাপ্রার্থীরা।
কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্টের সেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। হোসনা মোস্তারি নামের ফেসবুক আইডির কম্মেন্ট থেকে জানা যায়, “স্বৈরাচারী শাসকের আমলে সে (মামুন) হাছান মাহমুদের আত্মীয় দাবী করে কক্সবাজার পাসপোর্ট অনেক অনিয়ম করছে। বর্তমানে সে কোটি কোটি টাকা মালিক হয়ে গেছে।”
আরেকজন আলী হোসেন নামের আইডি থেকে বলেন, “ওনি(মামুন) কিভাবে রোহিঙ্গা মহিলাদের পাসপোর্ট করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিছে তথ্য আমাদের হাতে আছে। সব তথ্য সময়ের ব্যবধানে প্রকাশ করা হবে।”
এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রহস্যজনক ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। কারণ আওয়ামী সরকার থাকতেও তাদের কিছু হয়নি। অন্তবর্তীকালীন সরকার আসার পরও তাদের কিছু হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। পাসপোর্ট অফিসে দুদক আর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান এড়াতে এ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল চালিয়ে যায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক(এডি) মোবরাক হোসেন ও অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: আল মামুনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।
বিশেষ প্রতিবেদক: : বিশেষ প্রতিবেদক : কক্সবাজার জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী রেজাউল করিম অবশেষে দুর্নীতির মামলায় গ...বিস্তারিত
বিশেষ প্রতিবেদক: : বার্তা পরিবেশক : গত বৃহস্পতিবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত "দৈনিক আম...বিস্তারিত
বিশেষ প্রতিবেদক: : আগামীকাল ২১ জুন শনিবার কক্সবাজারে বিশ্ব বাঙালী সম্মেলন - ২০২৫ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কক্সবাজার কলা...বিস্তারিত
আয়াছ রনি : রামুতে লাশের মূল্য ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে মিমাংসা, ঘটনায় জড়িত নেই এমন দুই জনকে আসামি করে থানায় এ...বিস্তারিত
বিশেষ প্রতিবেদক: : গত বছর প্রায় ১০০ একর প্যারাবন ধ্বংস করে, এই বছর চিংড়িঘের নির্মাণ করার জন্য এক্সকাভেটর নিয়ে এসেছে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মহেশখালী শাপলাপুরে বসতভিটার জায়গা অবৈধ দখলে নিতে যুবলীগ নেতা বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে পরিকল্পিত সন...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited