শিরোনাম
আয়াছ রনি | ০২:২১ পিএম, ২০২৫-০৩-১৫
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আজ শুক্রবার কক্সবাজার সফরে আসছেন। এই সফরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গাদের সাথে ইফতারে অংশ নেবেন। সফর ঘিরে কক্সবাজারে জোরদার করা হয়েছ নিরাপত্তা। আগেই রোহিঙ্গাদের খাদ্যসহায়তা কমানোর ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এতে ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা বলছেন, তাদের সহায়তার কথা বাদ দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা অথবা সুন্দর ভাবে মৃত্যুর পর দাফন শেষে একটি কবরস্থানের নিশ্চিত করা । ক্যাম্পের বাহিরে খাবারের খোঁজ করতে গিয়ে রোহিঙ্গারা আরো চাপ বাড়াবে স্থানীয়দের উপর। জড়িয়ে পড়বে অপরাধমূলক নানান কর্মকান্ডে। গেল আট বছরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের মধ্যে একজন রোহিঙ্গাকেও দেশে ফেরাতে পারেনি জাতিসংঘ। উল্টো ক্যাম্পে বেড়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শিশু। আবার গেল ৬ মাসে লাখ ছাড়িয়েছে নতুন অনুপ্রবেশের সংখ্যা। মাঝে মধ্যে আরো নতুন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে জাতিসংঘের অনুরোধ পায় বাংলাদেশ। এই যখন অবস্থা তখন বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কিন্তু তিনি তার আগে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা জনপ্রতি ১২ দশমিক ৫ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলার করতে। জাতিসংঘের এই ঘোষণায় নাখোশ রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা বলছেন, ১২ ডলারে যেখানে তাদের জীবন চলেনা, সেখানে সেই সহায়তা কমানো তাদের দূর্ভিক্ষে ফেলবে। তাই রোহিঙ্গা নেতাদের দাবী, তাদের কোন সহায়তা দরকার নাই। নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে সুস্থ বাসস্থান নিশ্চিত করে দিলে এক মুহুর্তও থাকতে চান না বাংলাদেশে। জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরে, মহাসচিবকে এমন দাবীই করবেন রোহিঙ্গা নেতারা। কক্সবাজারে স্থানীয়রা জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাবেন বলে আশা করেন। জাতিসংঘের এমন সিদ্ধান্তে চিন্তিত শরনার্থী বিষয়ক কমিশন। স্থানীয় সুশীল সমাজ বলছে, রোহিঙ্গাদের সহায়তা কমালে তারা স্থানীয়দের জীবন যাপনে প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি জড়িয়ে পড়বে, অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজী, মাদক কারবার সহ অপরাধমুলক নানান কর্মকান্ডে। তবে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এটি মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম সফর। গেল আট বছরে দফায় দফায় বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ক্যাম্প সফরে আসলেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয় জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর রোহিঙ্গাদের ভাগ্য ফেরাতে পারে কি-না! গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ব্যক্তির সফরকে ঘিরে কক্সবাজার এবং উখিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিবের কক্সবাজার আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিয়োজিত রয়েছে এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সফরটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, এটি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা অর্ধেক কমিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরবেন রোহিঙ্গারা এই বলে যে শরণার্থী শিবিরগুলোতে যা মানবিক সংকট আরও বাড়াবে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৫ লাখের বেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী রয়েছে। আশঙ্কা করছেন, খাদ্য সহায়তা কমলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে, যা স্থানীয়দের ওপর প্রভাব ফেলবে। এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এসময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন তাকে স্বাগত জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ১৩ মার্চ চারদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। সফরের দ্বিতীয় দিন ১৪ মার্চ সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। কক্সবাজার বিমানবন্দরে জাতিসংঘের মহাসচিবকে স্বাগত জানাবেন অন্তর্র্বতী সরকারের দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক। এরপর কক্সবাজার থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবকে নেওয়া হবে উখিয়ার ক্যাম্পে। অপরদিকে একই দিন বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আরআরআরসি আরও বলেন, ওইদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিব রোহিঙ্গা কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে ইফতার করবেন। এরপর তারা ঢাকার উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোরে সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার না থাকায় রোগী ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ইসলামী হিজরি সনের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র জীবনের বহু ঐতিহাসিক ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : অন্যদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও মিয়ানমারে ফেরার আগে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাশেদা বেগম (৩...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : মৎস্য চাষ ও উৎপাদনে অসামান্য অবদান রাখায় ৪ জনকে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। 'রূপালি মৎস্যে ...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : টেকনাফ সদরের ডেইল পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া টেকনাফ মাদ্রাসার ছাত্র, হাফেজ আর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited