চট্টগ্রাম   শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

পার্বত্য চট্রগ্রামে বছরে ৬১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে তিন সন্ত্রাসী সংগঠন

অনলাইন ডেস্ক:    |    ০৯:০৩ পিএম, ২০২৬-১১-০৭

পার্বত্য চট্রগ্রামে বছরে ৬১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে তিন সন্ত্রাসী সংগঠন

পার্বত্য তিন জেলায় স্থানীয় উপজাতি’র তিন সন্ত্রাসী সংগঠন বছরে ৬১০ কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করে। পার্বত্য অঞ্চলের ৪১টি খাত থেকে তারা এই চাঁদা তোলে। এ টাকায় তারা গড়ে তুলেছে বিশাল অস্ত্রের মজুত। সম্প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিদের সবচেয়ে বড় বোঝা হলো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধার্য করা বার্ষিক চাঁদা। এসব চাঁদা বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয়। জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ২৮০ কোটি টাকা, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ২৫০ কোটি টাকা ও কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ৭৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা চাঁদা তোলে।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ে উৎপাদিত কলা, আদা, হলুদ, আনারস, আম, জুমের ফসলসহ যে কোনো উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করতে চাইলে প্রতিটি ধাপে আঞ্চলিক উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে চাঁদা দিতে হয়। এমনকি বাঙালিদের বাড়ি-ঘর নির্মাণ, গবাদিপশু বেচাকেনা বা নতুন ব্যবসা শুরু করতেও চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা দিতে হয় সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদেরও। অনেকে একে ‘জবরদস্তি ট্যাক্স’ বলে আখ্যায়িত করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপজাতীয় দলগুলোর চাঁদা আদায়ের খাতগুলোকে ছয়টি প্রধান সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে মোট ৪১টি উপখাতের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাধারণ খাতগুলো হচ্ছে চাকরিজীবী (বেসরকারি), পরিবার (বেসরকারি), গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু বিক্রি, হাঁস-মুরগি বিক্রি, ভারতীয় গরু-মহিষ বিক্রি ও পাহাড়ি পরিবার। আঞ্চলিক দলগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১১টি খাতে চাঁদা নেয়। সেগুলো হচ্ছে দোকান (বড়, মাঝারি ও ছোট), মোবাইল ফোন কোম্পানি, মোবাইল টাওয়ার, ছোট-বড় ইটভাটা, মিল-কারখানা, মাছ ব্যবসায়ী সমিতি, আবাসিক হোটেল, আসবাবপত্র বা ফার্নিচার দোকান, কুরিয়ার কোম্পানি, ছোট-বড় খাবার হোটেল ও ভাসমান আবাসিক হোটেল।

তারা কৃষি, ফলদ ও বনজ বাগান থেকে ১১টি খাতে চাঁদা নেয়। এগুলো হচ্ছে বাগানপ্রতি বার্ষিক চাঁদা, হলুদ ও আদার বস্তাপ্রতি, কলার ছড়াপ্রতি, ফলপ্রতি, বাগান মালিক, তামাক চাষি, তামাক চুল্লি, তামাক কোম্পানি, মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী ফুল বা উলু ফুল দিয়ে তৈরি ঝাড়ুপ্রতি, জুমচাষি প্রতি চাঁদা নেয়।

যানবাহনের আটটি খাত থেকে তারা চাঁদা নেয়। এগুলো হচ্ছে ট্রাক ও পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পিডবোট, বাস, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি ও চাঁদের গাড়ি। প্রত্যেক ঠিকাদারকে কাজের অনুপাতে চাঁদা দিতে হয়। বাঁশ ও কাঠ ব্যবসায়ীদের কাঠের সিএফটি ও পিস হিসেবে এবং কাঠের জোত মালিককে চাঁদা দিতে হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো গত এক বছরে ১০৩ জনকে অপহরণ করেছে। তারা সাধারণ নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের অপহরণ করে ওই অঞ্চলের উন্নয়ন ও শান্তির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অপহরণ সংস্কৃতি কেবল ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য বিভীষিকা নয় বরং এটি পুরো পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর একটি হাতিয়ার। উপজাতীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা, মুক্তিপণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ এবং মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য অপহরণকে একটি কৌশল হিসেবে নিয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি বছর উপজাতীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বড় অংকের চাঁদাবাজি করে। এই টাকা দিয়ে তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনে। সম্প্রতি জেএসএস-এর একটি সশস্ত্র দল ১৯টি অস্ত্র, ২,৫৮০ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২০টি হ্যান্ড গ্রেনেড সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ইউপিডিএফ ৬০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮৮৫০ রাউন্ড অ্যামুনিশন ও ১০টি হ্যান্ড গ্রেনেড সংগ্রহ করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র দলগুলো বিশেষত ভারত ও মিয়ানমার থেকে অস্ত্র গোলাবারুদ এবং মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে। সশস্ত্র সংগঠনগুলো মাদকদ্রব্য বিক্রির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে।

ইউপিডিএফ, জেএসএস ও কেএনএফসহ আঞ্চলিক উপজাতীয় সংগঠনগুলোর কাছে কী ধরনের অস্ত্র আছে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানায়, আঞ্চলিক উপজাতীয় সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসীদের হাতে একে-৪৭, একে-৫৬, একে-২২, এম-১৬, মার্ক-২ রাইফেল, এম-৪ কার্বাইন, ৪০ এমএম গ্রেনেড লঞ্চার, চায়না রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, এসএলআর, এসএমজি, এলজি, বিমানবিধ্বংসী রিমোট কন্ট্রোল বোমা, গ্রেনেড, হেভি মেশিনগান, জি-৩ রাইফেল, স্নাইপার রাইফেলের মতো ভয়ানক অস্ত্র রয়েছে।

এ ছাড়াও তাদের কাছে রয়েছে রকেট লঞ্চার, বিভিন্ন ধরনের হাতবোমা, শক্তিশালী ওয়াকিটকি ও মর্টার। আছে ড্রোন, সিগন্যাল জ্যামারসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জামও। তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে থাকা পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযানে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রোকন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে হলে ভূমি সমস্যা সমাধানসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে বহু সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থসামাজিক, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত নানাবিধ উন্নয়ন হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন সরকারি চাকরিতে কোটাসহ ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করে ভারত। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের কিছু লোককে টার্গেট করে দেশের বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরিতে কাজে লাগাচ্ছে প্রতিবেশী দেশটি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালে তড়িঘড়ি করে একটি কথিত শান্তি চুক্তি করা হয়েছে। সেই অসম চুক্তির পর আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলো লোক দেখানোভাবে কিছু পুরোনো ও অকেজো অস্ত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে বিশাল অস্ত্রের মজুত রয়ে গেছে। তারা এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র সহযোগিতা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি পরবর্তী সময়ে দুই শতাধিক সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক শূন্যতা নতুন কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ওই পার্বত্য শান্তিচুক্তিটি বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত এবং কিছু ধারা সংবিধানবিরোধী হওয়ার কারণে পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে সেটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করা আবশ্যক।

রোকন উদ্দিন আরো বলেন, ২০২১ সালে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো কার্যত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই সময় থেকে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি ‘অস্ত্রের উন্মুক্ত বাজার’। যেখানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সহজেই অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অঞ্চলে একে সিরিজের রাইফেল, রকেট লঞ্চার ও আধুনিক গোলাবারুদের অবাধ প্রবাহ রয়েছে।

তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/yx4jfcpe

রিটেলেড নিউজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।

কক্সবাজারের উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।

উখিয়া প্রতিনিধি : নুরুল আবছার :  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলà...বিস্তারিত


ইনানীতে গ্যাসের আগুন, নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন!

ইনানীতে গ্যাসের আগুন, নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন!

উখিয়া প্রতিনিধি : ইউসুফ নুর:  কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুনের ঘটনায় নà...বিস্তারিত


রেল সেতুর রেলিংয়ের পাইপ চুরি, চরম ঝুঁকিতে চলাচল

রেল সেতুর রেলিংয়ের পাইপ চুরি, চরম ঝুঁকিতে চলাচল

আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথেà¦...বিস্তারিত


মাঝসমুদ্রে অনিশ্চিত জীবন, ঝুঁকি নিয়ে স্বপ্নের পথে মালয়েশিয়া

মাঝসমুদ্রে অনিশ্চিত জীবন, ঝুঁকি নিয়ে স্বপ্নের পথে মালয়েশিয়া

আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ পাà...বিস্তারিত


উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের সয়লাব, ৫ দিনে উদ্ধার ২০ লাখ ইয়াবা! নেপথ্যে আরকান আর্মির মাদক সাম্রাজ্য, বদলে ফেলেছে কৌশল মাদক মাফিয়ারা

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের সয়লাব, ৫ দিনে উদ্ধার ২০ লাখ ইয়াবা! নেপথ্যে আরকান আর্মির মাদক সাম্রাজ্য, বদলে ফেলেছে কৌশল মাদক মাফিয়ারা

আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এখন যেন মাদকের হটস্পট। এই দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের এমন কোনো à¦...বিস্তারিত


পেকুয়ায় প্রবাসীর  জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

পেকুয়ায় প্রবাসীর  জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

পেকুয়া প্রতিনিধি :: : নূর মোহাম্মদ, পেকুয়া: কক্সবাজারের পেকুয়ায় চার শতক বসতভিটার জায়গা জবরদখলকে কেন্দ্র করে সৌদি প্রবà¦...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় গোলাগুলি, সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ

টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় গোলাগুলি, সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার: : মনছুর আলম মুন্না : কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ অভিযান চালাতে গিয়ে গোলà¦...বিস্তারিত


টেকনাফে ১.৬৩ একর জমির সৃজিত ৩৬৩৫ খতিয়ান বাতিল, মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত

টেকনাফে ১.৬৩ একর জমির সৃজিত ৩৬৩৫ খতিয়ান বাতিল, মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত

ইমরান নূর: কোঅর্ডিনেটর :   আয়াছ রনি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল মৌজায় ১ দশমিক ৬৩০২ একর জমি নিয়à...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর