শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৮:২৪ পিএম, ২০২৬-০৯-৩০
কক্সবাজারের টেকনাফ পাহাড়ি অঞ্চল অপহরণকারী ও ডাকাত দলের অভয়ারণ্য পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা অভিযানে ৩০টি আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় জীবিকার তাগিদে কাজে যাওয়া কৃষক-শ্রমিকদের মধ্যে এখনও আতঙ্কে বিরাজ করছে।
স্থানীয় জানায়, টেকনাফ উপজেলার পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় কৃষক-শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে শাকসবজি, পানের বরজ, মাছ চাষসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। তবে পাহাড়ি ডাকাতদলের ভয়ে ও আতঙ্কে ভয়ভীতিতে তারা নিরাপদে কাজ করতে পারছে না। যেকোন সময় ডাকাত ও অপহরণকারীর চক্রের কবলে পড়ার শঙ্কায় অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছে।
এর আগে কয়েকশো কৃষক-শ্রমিক অপহরণের শিকার হয়েছিল। পাহাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী লোকজনও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একাধিকবার অস্ত্রের মুখে দিন-দুপুরে বাড়িঘর থেকে লোকজন অপহরণ করে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটে।
বিশেষ করে বাহার ছড়া, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়ন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীরা বাসিন্দারা প্রায়ই ডাকাতদলের আতঙ্কে থাকেন। অন্য দিকে পুলিশ-বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গত দু’সপ্তাহে বাহারছড়া সংলগ্ন পাহাড়ে কয়েক দফা অভিযানে পরিচালনা করেছেন। এসব অভিযানে ৩০টির মতো ডাকাতের আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাহারছড়ার ইউপির জাহাজপুরার কৃষক আলী আকবর জানান, জীবিকার তাগিদে পাহাড়ি এলাকায় যুগ যুগ ধরে কৃষি কাজ করে আসছি। রোহিঙ্গা আসার পর থেকে অপহরণ-ডাকাতি বাড়ছে। তবে এসব অপরাধের সঙ্গে স্থানীয়রা কিছু দুষ্কৃতকারী জড়িত বলো জানা গেছে। ফলে মনে আতঙ্ক নিয়ে কাজ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ডাকাত দল কাউকে ধরে নিয়ে গেলে সহজে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় মুক্তিপণ ছাড়া মুক্তি মেলে না। ডাকাতদল কখনো কখনো দিন-দুপুরে গুলি ছুড়ে বাড়িঘর থেকে লোকজন ধরে নিয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক রয়েছে।
হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, কাজে প্রয়োজনে হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হই। কিন্তু ডাকাতদল সুযোগ পেলে সড়কে ব্যারিকেড পেলো লোকজন ধরে পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যায়। পরে মুক্তিপণ দাবি করা হয়, মুক্তিপণ না পেলে অপহৃতদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুর রহিম বলেন, হোয়াইক্যং থেকে বাহারছড়া, শামলাপুর ও কক্সবাজারে যাত্রী নিয়ে যাতায়াতের সময় তিনি নিজেও আতঙ্কে মধ্যে থাকেন। এ সড়কে পুলিশের ডিউটি থাকলেও যেকোন সময় পাহাড়ি সশস্ত্র ডাকাতরা যেকোন সময় তাদের আটক করতে পারেন এমন ভয় রয়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এই সড়কে একাধিকবার অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ফলে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হাসেম মেম্বার জানান, অপহরণ ও ডাকাতির রোডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করলেও আগে যারা অপহরণ কারীদের সহযোগিতা করতেছে তাদেরকেও আটক করা দরকার। আমরা জানি ইদানীং পাহাড়ের মধ্যে পুলিশ সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলে যৌথ অভিযান করে। যে হারে অপহরণের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে কৃষক -শ্রমিকরা পাহাড়ি এলাকায় কাজ করতে যেতে ভয় করেন। স্থানীয় আরেক শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, অপহরণের ঘটনা এখন বিভিন্নভাবে ঘটছে। কেউ কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেঁধে রেখে টাকা নিচ্ছে। আবার কৃষক-শ্রমিকরা পাহাড়ি সংলগ্ন এলাকায় চাষাবাদের জমিতে গেলে অপহরণকারীরা সুযোগ পেলে সেখান থেকে তাদেরকেও ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সুযোগ পেলে যে কেউ অপহরণের শিকার হচ্ছে। আমরা আশা করবো অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ হোক।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, অপহরণ ও মানবপাচার রোধে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি এলাকায় থানা পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ডাকাত ও মানব পাচারের আনুমানিক ৩০টির মতো আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে দু’জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাত ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে জনগণের সহযোগিতায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমাদের ডেস্ক : : দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে...বিস্তারিত
ইমরান নূর: কোঅর্ডিনেটর : সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী হাফেজ মো. আবদুল্লাহ (৩৫–৩৬) নিখোঁজ হয়েছেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্à...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : রানওয়ে প্রস্তুত, আধুনিক টার্মিনালও প্রস্তুত। অবকাঠামোর বড় অংশের কাজ শেষ হলেও সামনে রয়েছে আরেক চ্à¦...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজার টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজারে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ৩ রোহিঙ্গা নাগà...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন হয় “আল-আযহার ইসলামিক ইনস্টিটিউট টে...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : ক্সবাজার অঞ্চলের রাজনীতির প্রাণপুরুষ, আলোচিত আইনজ্ঞ ও আইটি বিশেষজ্ঞ, সাড়াজাগানো পার্লামেন্টারিà§...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited