শিরোনাম
অনলাইন ডেস্ক: | ০৯:০৬ পিএম, ২০২৬-১১-০৫
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণÑউভয় পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পাবে দলটি।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সীমিত করতে পারবে তারা।
এর আগে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সব প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিরোধীরা কোনো প্রস্তাব পাঠালে তিনি ভেটো দেবেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের একমাত্র ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট কমিটির তদন্তের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আর্টিকেল পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তোলা হয়।
সংবিধানে অভিশংসনের তিনটি ভিত্তি উল্লেখ রয়েছেÑরাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুস গ্রহণ এবং গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলে বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়।
সিনেটে বিচারকাজে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। ১০০ সিনেটর উপস্থিত থাকলে প্রয়োজন হবে ৬৭ ভোট। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তও নিতে পারে সিনেট।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে সেপ্টেম্বরে প্রশ্ন করা হলে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, তারা কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতা স্টিভ স্ক্যালিসের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জিতলে প্রথম দিন থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন উদ্যোগ নেবে।
প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি, অভিবাসন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা, করপোরেট মুনাফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের টিকানীতি নিয়ে তদন্তে গুরুত্ব দেবেন তারা।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, উৎপাদন ও খনিজ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
তবে এসব তদন্তে অভিশংসনের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সে পথে হাঁটবেন কি নাÑতা রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।
প্রথম মেয়াদে দুবার প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে অভিশংসিত করলেও সিনেটে দুবারই সেই প্রস্তাব আটকে যায়। ২০১৯ সালে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা আটকে রেখে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের রাজনৈতিক ক্ষতি করতে ইউক্রেনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। সে অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয়। তবে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিনেটে দুই অভিযোগেই তিনি খালাস পান। কেবল রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
এরপর ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনায় দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন তিনি। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন ঠেকাতে চালানো ওই হামলায় একজন ট্রাম্প সমর্থক নিহত হন এবং বহু পুলিশ সদস্য আহত হন।
২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদে বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ১০ রিপাবলিকানও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটের বিচারে ৫৭ সিনেটর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিলেও প্রয়োজনীয় ৬৭ ভোট না পাওয়ায় টিকে যান তিনি। এ সময় সাত রিপাবলিকান সিনেটর তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন।
দুই দফা অভিশংসনের পরও ক্ষমতা হারাতে হয়নি ট্রাম্পকে। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
--https://shorturl.at/s9x5c
অনলাইন ডেস্ক: : গত ১ নভেম্বর আসামের ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর রাজস্ব চক্রের অধীন আলমগঞ্জ পার্ট-৯ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পà...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্à¦...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। à¦...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের ঘটনার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস তাদের প্রতিরোধ সংগ্...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ভারতের উত্তর প্রদেশে মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার ঘটনায় ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে হিন্দুত্বব...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : শিক্ষাবাজেটে ঘাটতি, শিক্ষক ও কর্মী সংকট এবং পুরোনো ভবনের শিক্ষাদানের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়à...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited