শিরোনাম
টেকনাফ প্রতিনিধি : | ০৮:১৭ পিএম, ২০২৬-১১-০৫
সামিরা আক্তার :
দীর্ঘ নয় মাস পর পর্যটকের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছে এমভি বার আউলিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। প্রায় ছয় ঘণ্টার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ঘাটে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ৮০০ জনের বেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়ে বরণ করা হয়েছে। এ সময় ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। ঘাটে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার দ্বীপে এসে তিনি অভিভূত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেন্টমার্টিনে আসতে পেরে আনন্দিত। পর্যটকদের প্রবেশের সময় কিউআর কোড স্ক্যান ও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে।
পর্যটক না থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ী করিম উল্লাহর রেস্তোরাঁ। বৃহস্পতিবার আবার দোকান খুলেছেন তিনি। করিম উল্লাহ বলেন, ব্যবসা বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়েছে। পর্যটকদের আগমনে দ্বীপটি আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দিনটি তাঁদের কাছে ঈদের আনন্দের মতো।
স্থানীয় তরুণ আল সাবের বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত তিনি। দীর্ঘদিন পর্যটক না আসায় সংসারে টানাপোড়েন চলছিল। আবার পর্যটক আসায় কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। জীবিকার পথও সচল হবে বলে আশা করছেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের বরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। নিয়মকানুন মেনে চলতে মাইকিং করা হচ্ছে। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, জাহাজটি নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছেছে। পর্যটক চলাচল শুরু হওয়ায় দ্বীপবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
স্কোয়াব সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। জাহাজ তিনটির মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, বারবিকিউ পার্টি এবং কেয়াবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রবাল, সামুদ্রিক প্রাণী ও দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটক চলাচল শুরু হওয়ায় দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফেরার আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পর্যটনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্টাফ রিপোর্টার: : মনছুর আলম মুন্না : কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ অভিযান চালাতে গিয়ে গোলà¦...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : কনক বড়ুয়া : উখিয়ার মনখালী গ্রামে দীর্ঘদিনের এক ‘অদৃশ্য চোর’ অবশেষে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। কোনà§...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে অগ্নিনিরাপত্তার উদ্বেগ ...বিস্তারিত
চকরিয়া প্রতিনিধি: : মোহাম্মদ নুরুদ্দোজা : কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেà...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : মো: আরাফাত সানি : কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান ছিনতাই ও আত্মসাতের অভিযোগে পাহাড়ে তুলে নিয়ে ...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : কনক বড়ুয়া : কক্সবাজারের উখিয়া থানা পুলিশ গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে নিয়মিত মামলা, গ্রেফতারি পরোয়à¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited