শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৯:০৬ পিএম, ২০২৬-১০-২৮
ইমরান নূর :
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বারিউল কোরআন
ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশুকে শিক্ষকের চুমু দেওয়ার অভিযোগ
প্রমাণিত হওয়ার আগেই শাহজালাল রুমি নামে এক অভিভাবক তাঁর ১৫-১৬ জন সঙ্গীকে নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ অন্তত ৩ জন আহত হন। এছাড়া মাদ্রাসা ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে একদল মানুষ প্রবেশ
করে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তখন শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের
স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের।
কথার একপর্যায়ে আমি বলি, পরীক্ষায় ভালো করলে চুমু দেব।’ এ কথা শেষ হতেই ‘কিসের চুমুরে!’ বলে শিশুটির বাবাসহ উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন।
দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন দাবি
করছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক
মোসলিম আহম্মদকে মারধর করে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও
নিরাপত্তাকর্মীকেও মারধর করা হয়।” এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি
মুঠোফোন লুটের অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর
রহমান জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি
মামলা দায়ের করেছেন। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা লুটপাট ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধরের
ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
শিশুটির বাবা দাবি করেন, “আমার মেয়েকে শিক্ষকের চুমু দেওয়ার বিষয়টি মাদ্রাসা
কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে আর মাদ্রাসায় যায়নি। কাউকে এ বিষয়ে জানালে শিক্ষক তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন।”
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলেন, “শিশুটির বাবা কখনো এ
প্রতিষ্ঠানে আসেননি, আমরা তাঁকে চিনিও না। তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করে হঠাৎ এসে হামলার পরিস্থিতি (মব) তৈরি করেছেন। শিশুটির অভিভাবক হিসেবে আমরা তার মা ও নানাকে চিনি; কারণ নানা এসে শিশুটিকে ভর্তি করিয়েছিলেন এবং মা ও নানাই তাকে নিয়মিত আনা-নেওয়া করতেন। এমনকি কথিত অভিযোগের পরও শিশুটি তিন দিন মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিল। আমাদের কাছে এর সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে; আপনারা চাইলে দেখতে পারেন।”
সাংবাদিক, সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন
ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ শিশুর নিরাপত্তা ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য মাদ্রাসা ও সামগ্রিক আলেম সমাজকে দোষারোপ করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকও শিশুর সুরক্ষা, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার এবং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ
গুরুত্ব দিয়েছেন।
এদিকে, শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এখনও গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলে বলছেন “আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (সা.) বিরুদ্ধে
কটূক্তি করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধগুলোর একটি, যার বিচার শরিয়াহর দৃষ্টিতে
মৃত্যুদণ্ড। সরকারের কাছে এমন অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও অনেক সময় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। অথচ সেখানে শরিয়াহর বিধানের দাবি তুলে জনগণ ক্ষুব্ধ হলে তাকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে জেল-জুলুম করা হয়। তবে রুমির মতো ব্যক্তিরা যখন প্রকাশ্যে আইন হাতে তুলে নেন, তখন প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা বা দ্বিচারিতা কেন?”
সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিশুর প্রতি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগের যেমন নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে; তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে
অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের
সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
উখিয়া প্রতিনিধি : নুরুল আবছার : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলà...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : ইউসুফ নুর: কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুনের ঘটনায় নà...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : ইউসুফ নুর : কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে গ্য...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মহেশখালী প্রতিনিধি: ওয়াজেদুল হক মণি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির à¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগত শেফায়ত ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে অফà¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথেà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited