শিরোনাম
অনলাইন ডেস্ক: | ১০:৫৪ পিএম, ২০২৬-০৮-২৫
একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ওটেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহবান জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষমতা উন্নয়ন, জীবিকা ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ওটেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহবান জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকার, কূটনৈতিক মিশন ও দাতা সংস্থা, জাতিসংঘ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাটি সহনশীলতা (Resilience), সংহতি (Solidarity) এবং সমাধান (Solution)—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়।
রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতির নয় বছর উপলক্ষে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি), বাংলাদেশ সরকার এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী ২৪-২৫ আগষ্ট, “THE ROHINGYA EXODUS” কর্মসূচির আয়োজন করেন। এর অংশ হিসেবে “The Rohingya Exodus: Challenges and the Future of This Protracted Crisis” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে সংকট মোকাবিলায় শুধু জরুরি মানবিক সহায়তা নয়, বরং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা, সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়েছেন। History
একই সঙ্গে আলোচনায় মানবিক অর্থায়ন কমে আসার মধ্যেও রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারে রাখা, বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এইচ.ই. আসাদ আলম সিয়াম। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন এনআরসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপঙ্কর দত্ত। গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন এনআরসি বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজার মাহাদী মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সমাপনী বক্তব্য দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্যে এনআরসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপঙ্কর দত্ত গত নয় বছর ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে এই দীর্ঘ মানবিক কার্যক্রমে দাতা সংস্থা, জাতিসংঘ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজনের অব্যাহত ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে এর ধরন ও প্রয়োজন দুটোই পরিবর্তিত হয়েছে। তাই জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, দক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ তৈরি এবং রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
কমে আসা মানবিক অর্থায়নের প্রেক্ষাপটে তিনি বহু-বছর মেয়াদি অর্থায়ন, স্থানীয়করণ এবং সরকার, মানবিক সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রে রাখার বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বাস্তবতার সঙ্গে মানবিক কার্যক্রমকে খাপ খাইয়ে নিতে হলেও সমাধানের লক্ষ্য থেকে সরে আসা যাবে না। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, টেকসই, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
গোলটেবিল আলোচনার শুরুতে দুটি উপস্থাপনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের (আরআরআরসি) পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ধারাবাহিকতা এবং চলমান মানবিক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়। এরপর এনআরসি-এর হাউজিং, ল্যান্ড অ্যান্ড প্রপার্টি (এইচএলপি) টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ও ইনফরমেশন, কাউন্সেলিং এন্ড লিগ্যাল এসিস্টেন্স (ইকলা) স্পেশালিস্ট ইজ্জাতুল্লাহ রাজী ক্যাম্পে আবাসন, ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর ইগর চিওবানু বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের পর মানবিক কার্যক্রম মূলত একটি জরুরি সাড়াদান হিসেবে শুরু হলেও গত নয় বছরে সংকটের ধরন ও প্রয়োজন অনেকটাই বদলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনরক্ষা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করা ছিল প্রধান অগ্রাধিকার; এখন সেই সেবাগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসাধারণ সংহতি ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং গত নয় বছরে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, মানবিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমি বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যেও বাংলাদেশকে এই বিশাল মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামনের দিনগুলোতে মানবিক সহায়তার ধরনকে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে বেশি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে টেকসই সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে PHALS-এর নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, নয় বছরে রোহিঙ্গা সংকটের ধরন ও প্রয়োজন অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির সময় গড়ে ওঠা সমন্বয় কাঠামোকেও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বাস্তবতায় নতুনভাবে ভাবা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত লক্ষ্য হলেও, সেটি সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা এবং উপযুক্ত আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়করণের মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি সমাধানের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার পক্ষ থেকে Humanity & Inclusion (HI)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সিবগাতুল্লাহ আহমেদ বলেন, দীর্ঘ নয় বছরে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তবতা বদলেছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর কাজের ধরনও বদলানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থাগুলোকে আরও বেশি নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংহতি ধরে রাখা এবং সীমান্তের দুই পাশে কাজ করার সক্ষমতার ক্ষেত্রে। পৃথক প্রকল্পকেন্দ্রিক কার্যক্রমের পরিবর্তে আরও সমন্বিত ও সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবর্তিত মানবিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের রাখতে হবে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি), বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম মাইনুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পে আবাসন, ভূমি ও সম্পত্তি (HLP), আইনি সুরক্ষা, ওয়াশ ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকে চারটি সংস্থা প্রোটেকশন কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করছে এবং বর্তমানে এর সঙ্গে আরও নয়টি স্থানীয় সংস্থা যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এই মানবিক কার্যক্রমে অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার, স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্য ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক জীবনরক্ষাকারী সহায়তার জন্য অ্যাডভোকেসি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ‘জীবনরক্ষাকারী সহায়তা’র ধারণাকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি শিক্ষা ও সুরক্ষাকেও জীবনরক্ষাকারী খাত হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন।
মানবিক কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করা হতো, এখন তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার দিকে কার্যক্রম এগিয়েছে। এই পরিবর্তনকে আরও এগিয়ে নিতে কমিউনিটির অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও জীবিকার জন্য আরও সুযোগ তৈরি এবং বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
দাতা সম্প্রদায়ের আলোচনায় মানবিক অর্থায়নের সংকট, দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নির্ভরতা এবং রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ বিশেষভাবে উঠে আসে। ইউরোপিয়ান কমিশন’স ডিরেক্টরেট-জেনারেল ফর ইউরোপিয়ান সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশনস (ইকো)-এর প্রতিনিধি বৈশ্বিক মানবিক অর্থায়নের বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে দীর্ঘ সময় ধরে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পায়।
ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান এলি মুডি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অপেক্ষার সময়টিকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখতে হবে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—উভয়ের জন্য সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে অব্যাহতভাবে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিলডেন দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, ততদিন তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন এবং তাদের জন্য সম্ভাব্য সুফলও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সাব অফিস প্রধান, কক্সবাজার, মার্চেল কোলোম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর পথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকা জরুরি এবং রোহিঙ্গারা যেন পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউএনএইচসিআর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সহায়তা ও সহজতর করতে পারে, তবে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নিশ্চিত করা ইউএনএইচসিআর-এর একার পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জীবিকার সুযোগ এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন, যাতে তারা আরও আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন এবং নিজেদের প্রয়োজন মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।
একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ও সহনশীলতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। রোহিঙ্গাদের আগমনের আগে থেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর যে প্রভাব পড়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিয়ে তাদের সক্ষমতা জোরদারে কাজ করা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গবেষণাকে আরও কার্যকরভাবে নীতিনির্ধারণ ও সমাধানের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, গবেষক ও মানবিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে গবেষণা শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তব প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং টেকসই সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
তার বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন ও দৃষ্টিভঙ্গিকে গবেষণায় যথাযথভাবে তুলে আনা এবং সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে জাতীয় নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির বাস্তবতায় শুধু ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান প্রজন্মের রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের বিষয়েও ভাবতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা এবং উপযুক্ত আয়বর্ধক সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা বলেন।
‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’-র সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ২০১৭ সালের পর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকটসহ বিশ্বের বিভিন্ন নতুন সংকটের কারণে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির প্রতি দাতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগও পরিবর্তিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় সংকটটিকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় ধরে রাখতে নতুন ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং অর্থায়নের জন্য মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জীবিকার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে একটি প্রজন্মকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।
সংবাদ পরিবেশনে আন্তর্জাতিক নীতি ও সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংবাদকে প্রভাবিত করতে পারে—এ বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। একই সঙ্গে যেকোনো শরণার্থী সংকটের প্রভাব স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও পড়ে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে এসব বিষয় আরও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি তানবিরুল মিরাজ রিপন রোহিঙ্গা সংকটকে গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে সংকটের ধারাবাহিক নথিবদ্ধকরণ এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার বক্তব্যে সম্মিলিত উদ্যোগের ঘাটতি এবং প্রকৃত ক্ষমতায়নের বিষয়টিও উঠে আসে। একই ধরনের গল্প ও আবেগ বারবার তুলে ধরার পরিবর্তে কমিউনিটির সহযোগিতা নিয়ে সংকটের বাস্তবতাকে আরও কার্যকরভাবে সামনে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার হেড অব ক্রাইম, জামিল খান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তথ্য, সংখ্যা ও পরিসংখ্যান যাচাই এবং প্রয়োজনে সেগুলোকে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন। সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা ও ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের পাশাপাশি জাতিগত পরিচয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার কথা তার বক্তব্যে উঠে আসে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাবিরোধী বয়ান যেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে উৎসাহিত না হয়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার প্রেসিডেন্ট প্যানেল মেম্বার ও রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মো. শোয়াইফ বলেন, নয় বছরের দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতির পর ক্যাম্পের মানুষের মধ্যে হতাশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বাড়লেও মানবিক অর্থায়ন ও খাদ্য সহায়তা কমছে। শিক্ষা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে; পাশাপাশি বন্যা, ভূমিধস ও পরিবেশগত ঝুঁকি ক্যাম্পে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির কারণ হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় তিনি স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পাশাপাশি আরও টেকসই অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয় পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তার বক্তব্যে উঠে আসে।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট হাফসা, এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস কাউন্সিল, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। রোহিঙ্গাদের নতুন করে দেশত্যাগ ঠেকাতে সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করা এবং মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাখাইনের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুনর্বাসনের পর ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং নতুন দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রোহিঙ্গাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কৃতজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব জনাব আসাদ আলম সিয়াম রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ নয় বছরেও সংকটের সমাধান না হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও সম্পৃক্ততা ধরে রাখা জরুরি। প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের প্রচেষ্টা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির দিকে নিবদ্ধ, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সমাপনী বক্তব্যে গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন ও দাতা সংস্থা, জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থা, স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সকল অংশীজনকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি নয় বছরের দীর্ঘ রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বিভিন্ন অংশীজনের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত একই আলোচনার টেবিলে উঠে আসার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। সংকটের পরিবর্তিত বাস্তবতা, চলমান মানবিক চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ ও মতামত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত সকল অংশীজনের অবদানকে স্বীকৃতি দেন এবং এই সংকটকে ঘিরে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তথ্যসূত্র:
--https://shorturl.at/9kcM1
অনলাইন ডেস্ক: : চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম অযোগ্য খেজুর-কমলাসহ ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে দ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৈনিক আমাদের চট্টগ্রামের উদ্যোগে ‘সীরাতে মোস্তফা মাহফিল’ ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির মহানগর কার্যালয়ের সামনে দ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই পরি...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : মহেশখালীর আমাবশ্যাখালী মৌজায় সরকারি প্যারাবন নিধন করে চিংড়িঘের ও লবণ মাঠ তৈরি এবং অবৈধভাবে পুকুর...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited